• ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৪ঠা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৮ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

বিশ্বখ্যাত ‘লিভিং ঈগল’ বৈমানিক গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অবঃ) সাইফুল আজম- এর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত জুন ১৪, ২০২৬
বিশ্বখ্যাত ‘লিভিং ঈগল’ বৈমানিক গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অবঃ) সাইফুল আজম- এর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি

আজ ১৪ জুন ২০২৬ (রবিবার) বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রয়াত কিংবদন্তি বৈমানিক গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অবঃ) সাইফুল আজম- এর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী। গ্রুপ ক্যাপ্টেন সাইফুল আজম (অবঃ)- এর বীরত্ব, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং পেশাগত উৎকর্ষতা আজও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্যদের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। গ্রুপ ক্যাপ্টেন সাইফুল আজম (অবঃ) ছিলেন একমাত্র সামরিক পাইলট, যার চারটি দেশের বিমান বাহিনীর (বাংলাদেশ, জর্ডান, ইরাক ও পাকিস্তান) হয়ে কাজ করার কৃতিত্ব রয়েছে। একজন দক্ষ বৈমানিক হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কম্ব্যাট কমান্ডার্স ট্রেনিং স্কুল- এ প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত হয়ে সেখানে সর্বোচ্চ সম্মানসহ ‘Top Gun’ উপাধিতে ভূষিত হোন। তিনি ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর একজন দুঃসাহসিক যোদ্ধা হিসেবে সফল আক্রমণ পরিচালনার জন্য ‘Sitara-e-Jurat’ উপাধিতে ভূষিত হোন।

এছাড়াও, গ্রুপ ক্যাপ্টেন সাইফুল আজম (অবঃ) ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সূচনালগ্নে জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সেসময় জর্ডানের মাফরাক বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে তৎকালীন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট সাইফুল আজম শত্রুপক্ষের (ইসরাইল) একটি সুপার মিস্টেয়ার যুদ্ধবিমান ভূপাতিত এবং অপর একটি ক্ষতিগ্রস্ত করেন। তাঁর এই অসাধারণ বীরত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জর্ডান সরকার তাঁকে ‘Wassam-al-Istiqlal’ খেতাবে ভূষিত করে। পরবর্তীতে, যুদ্ধ চলাকালে জর্ডান কর্তৃপক্ষ বৈমানিকদের ইরাকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তদানুযায়ী তিনি ইরাক বিমান বাহিনীর হয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং যুদ্ধে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করতে সক্ষম হোন। যুদ্ধে তিনি শত্রুপক্ষের (ইসরাইল) দুটি জঙ্গি বিমান – একটি Mirage III এবং একটি Vautour IIA ভূপাতিত করেন। এই অসাধারণ সাহসিকতা ও যুদ্ধদক্ষতার জন্য তাঁকে ইরাক হতে ‘Nawt-al Shuja’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তিনি ০৩টি দেশের সামরিক খেতাবে ভূষিত হোন- যা একটি বিশ্ব রেকর্ড। উল্লেখ্য যে, ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ যুদ্ধবিমানের বৈমানিকদের অন্যতম হিসেবে ‘Living Eagle’ উপাধিতে সম্মানিত করে; তিনি ছিলেন এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জনকারী বিশ্বের মাত্র ২২ জন বৈমানিকের একজন। স্বাধীনতার পর তিনি ১৯৭৪ সালে দেশে ফিরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে যোগদান করেন। বিমান বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন শেষে তিনি ১৯৭৯ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রয়াত এই কিংবদন্তির বীরত্বগাথা সর্বদা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930