নিপ্পন ফাউন্ডেশন অব জাপানের সম্মানসূচক চেয়ারম্যান মি. ইয়োহেই সাসাকাওয়া আজ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মি. হুমায়ুন কবিরের কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
সাক্ষাৎকালে ইয়োহেই সাসাকাওয়া বলেন, নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক গভীর বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক আস্থার ওপর প্রতিষ্ঠিত, যার ইতিহাস অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময়ের। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তার মধ্য দিয়ে দুই পক্ষের সহযোগিতার সূচনা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এরপর থেকে নিপ্পন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের জনগণের পাশে থেকে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা করে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রোহিঙ্গা মানবিক সংকট মোকাবিলায়ও নিপ্পন ফাউন্ডেশন বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে তিনি জানান।
ইয়োহেই সাসাকাওয়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে জানান, তিনি ও তাঁর সংগঠন গত ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কুষ্ঠরোগ নির্মূলের লক্ষ্যে কাজ করে আসছেন। এ কাজে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), বিভিন্ন দেশের সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (NGO) এবং কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংগঠনগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন তারা। বাংলাদেশে কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত রোগীদের সহায়তায়ও তারা কাজ করতে আগ্রহী বলে জানান তিনি।
সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) জন্য জাপান ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন।
তিনি রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান অর্জনে জাপানের অব্যাহত প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই মানবিক ও আঞ্চলিক সংকটের সমাধানে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।