ইয়াঙ্গুনের থুয়ান্না স্টেডিয়ামে ২০২৫ সালের ২ জুলাই শেষ বাঁশি বাজতেই বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের উল্লাস যেন পুরো দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছিল।
কারণ, তারা ইতিহাস গড়েছে —প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ জায়গা করে নিয়েছে ২০২৬ সালের এএফসি নারী এশিয়ান কাপে, যা অনুষ্ঠিত হবে অস্ট্রেলিয়ার আলো ঝলমলে মাঠে। বাছাইপর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মিয়ানমারকে ২-১ গোলে হারানো শুধু একটি জয় নয়, বরং এটি ছিল এমন এক মুহূর্ত, যা গোটা দেশকে একত্রিত করেছে, প্রতিটি ঘরে ঘরে আনন্দের ঢেউ তুলেছে এবং বাংলাদেশের নারী ফুটবলকে আন্তর্জাতিক মানচিত্রে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে মিয়ানমারের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জোড়া গোল করে ইতিহাস গড়েছেন রাঙামাটির কৃতি কন্যা ঋতুপর্ণা চাকমা। তার গোলেই বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল পৌঁছে গেছে এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে। জাতীয় দলের আরেক গর্ব, গোলকিপার রূপনা চাকমাও ছিলেন দলের নির্ভরতার প্রতীক। তাদের এই যুগান্তকারী সাফল্যে উচ্ছ্বসিত পুরো রাঙামাটি—বিশেষ করে শিক্ষক, কোচ ও স্বজনরা।
রাঙ্গামাটির পাহাড়ি জনপদ থেকে উঠে আসা এক সাহসী তরুণী, যার অসাধারণ দুই গোল বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছিল।
আর সেই ঐতিহাসিক অর্জনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ২১ বছর বয়সী ঋতুপর্ণা চাকমা — রাঙ্গামাটির পাহাড়ি জনপদ থেকে উঠে আসা এক সাহসী তরুণী, যার অসাধারণ দুই গোল বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছিল।
আজ ঋতুপর্ণা শুধু রাঙ্গামাটির গর্ব নয়, পুরো বাংলাদেশের অনুপ্রেরণা। তাঁর পথচলা, তাঁর সাফল্য, বাংলাদেশের নারী ফুটবলের নবজাগরণের প্রতীক।
বর্তমানে তাদের একমাত্র অভিভাবক বোনজামাই সুদিপ চাকমা, যিনি একজন কাঠমিস্ত্রি। তিনি বলেন, ‘ঋতুপর্ণার সাফল্যে আমি কতটা খুশি, তা ভাষায় বোঝাতে পারব না। আমাদের পরিবার সবসময় তাকে সমর্থন দিয়েছে। ওর মা খুব অসুস্থ, কিন্তু মেয়ের এমন অর্জনে চোখে জল নিয়ে তিনি আজও হাসছেন। ওর এই অবস্থানে পৌঁছানো আমাদের পরিবারের জন্য পরম পাওয়া।’
ঋতুপর্ণা ও রূপনাদের গড়ে তোলার পেছনে অন্যতম ভূমিকা পালন করেছেন কোচ শান্তিমনি চাকমা। আবেগ জড়ানো কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ঋতুপর্ণা, মনিকাদের সাফল্যে আমি গর্বিত। ওরা যদি এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে, তাহলে অনেক দূর যাবে। রাঙ্গামাটিতে ওদের দেখে আজ পাড়ার শিশুরাও অনুপ্রাণিত হচ্ছে ফুটবল খেলায়।