ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যখন সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কে হচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষ থেকে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই এই সাংবিধানিক পদের উত্তরাধিকার নিয়ে গুঞ্জন ও বিশ্লেষণ তুঙ্গে।
বর্তমানে এ পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন দুইজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আলোচনায় শীর্ষে মির্জা ফখরুল ও ড. ইউনূস
দলীয় সূত্র ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সংকটে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য শক্ত দাবিদার। ঠাকুরগাঁও থেকে নির্বাচিত এই অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে বিএনপির তৃণমূল ও শীর্ষ নেতৃত্ব দেশের পরবর্তী অভিভাবক হিসেবে দেখতে চান বলে গুঞ্জন রয়েছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্যতা এবং ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী সংস্কার প্রক্রিয়ায় সফল নেতৃত্বের কারণে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামটিও আলোচনায় রয়েছে। ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানসহ অনেকে মনে করছেন, তিনি রাষ্ট্রপতি হলে রাষ্ট্র সংস্কারের চলমান গতি বজায় থাকবে। তবে ড. ইউনূসের প্রেস সচিব জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে সামাজিক ব্যবসা ও জলবায়ু রক্ষায় মনোনিবেশ করতে আগ্রহী।
রাষ্ট্রপতি পদের সম্ভাব্য তালিকায় আরও কয়েকজনের নাম রাজনৈতিক মহলে আলোচিত হচ্ছে:
নজরুল ইসলাম খান: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্ষীয়ান নেতা।
ড. আব্দুল মঈন খান: সাবেক মন্ত্রী ও অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদ।
ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য।
অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন ব্যাপারী: রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে এবং একই দিনে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান হতে পারে। সংবিধান অনুযায়ী, বর্তমান রাষ্ট্রপতি নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের শপথ পাঠ করাবেন। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে বলে আশা করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
বিএনপি দলীয় সূত্র জানিয়েছে, অভিজ্ঞ ও তারুণ্যের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। সবার নজর এখন বঙ্গভবনের দিকে—কে হচ্ছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান।