আগামী ১৪ মার্চ শনিবার থেকে সারা দেশে একযোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো মরণঘাতী রোগ থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করতে তিনি এই জনগুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সম্প্রতি দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, “আমরা সবাই সচেতন হলে ডেঙ্গু কিংবা চিকুনগুনিয়া থেকে নিজেদের রক্ষা করা সম্ভব।” তিনি উল্লেখ করেন যে, এডিস মশার কামড় থেকেই মানুষ এসব রোগে আক্রান্ত হয়। তাই আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা করার চেয়ে আগে থেকেই প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
সাধারণত জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি থাকলেও, জনস্বাস্থ্যবিদদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করেন যে, বর্তমানে ডেঙ্গু নির্দিষ্ট কোনো মৌসুমে সীমাবদ্ধ নেই। যেকোনো সময় মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
কীটতত্ত্ববিদদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী জানান, এডিস মশা সাধারণত তিন দিনের জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করে। মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণে তিনি নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো অনুসরণের নির্দেশ দেন:
ফুলের টব, ড্রাম, বালতি বা পরিত্যক্ত টায়ারে পানি জমতে না দেওয়া।
বাড়ির ছাদ ও পানির ট্যাংক পরিষ্কার ও ঢেকে রাখা।
ড্রেন, ডোবা ও নর্দমার পচা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা।
প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার নিজ নিজ বসতবাড়ির চারপাশ পরিষ্কার করা।
প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ১৪ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া এই অভিযানে স্থানীয় প্রশাসন সরাসরি যুক্ত থাকবে। তিনি জাতীয় সংসদ সদস্যসহ সকল স্তরের জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতি সপ্তাহের শনিবার আপনারা যার যার এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করুন।”
সরকারের জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির মূল কথা ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চললে ইনশাআল্লাহ দেশবাসীকে এই মরণঘাতী জ্বর থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। তিনি ভাষণের শেষে সকলকে নিজের ঘর ও চারপাশ পরিষ্কার রেখে নিজেকে এবং অন্যকে সুরক্ষিত রাখার অনুরোধ জানান।