• ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

চট্টগ্রামে বিশাল সমাবেশ থেকে ঘোষণা’সনাতনীরা সুরক্ষার জন্য লড়তে জানে’

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৪
চট্টগ্রামে বিশাল সমাবেশ থেকে ঘোষণা’সনাতনীরা সুরক্ষার জন্য লড়তে জানে’

চট্টগ্রামের চেরাগী পাহাড় মোড়ে শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সম্মিলিত সনাতনী ছাত্র সমাজ আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সনাতনীরা যদি শান্তিতে না থাকতে পারলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রাপ্তি ব্যর্থ হবে বলে চট্টগ্রামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি সমাবেশ থেকে মন্তব্য করা হয়েছে।

হিন্দু নির্যাতন, মঠ-মন্দিরে হামলা ও খুলনায় প্রশাসনের উপস্থিতিতে কলেজ ছাত্র উৎসব মণ্ডলকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার প্রতিবাদে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে ইসকন পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী বলেন, “আমরা সনাতনী ধর্মাবলম্বীরা অবিভক্ত ভারতের ভূমিপুত্র। আমরা কোনো দেশ থেকে এখানে আসিনি।

এটাও যেমন সত্য, তেমন সত্য হচ্ছে আমরা নিজেদের সুরক্ষার জন্য লড়তে জানি। নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য আমরা কখনই পিছপা হব না।”

এসময় তিনি বলেন, “হিন্দুরা যখন নিপীড়িত হয়, তারা যখন অধিকার নিয়ে মাঠে নামে, তাদেরকে ‘ভারতীয়’ বা ‘আওয়ামী লীগের’ ট্যাগ দেওয়া হয়। তবে আমরা কোনো দলের গোলাম নই।

“দেশে প্রত্যেকটি মানুষের ভোটাধিকার যেমন রয়েছে, নাগরিক অধিকারও আমাদের রয়েছে। গত সরকারগুলোর মত এখনও আমাদের মঠ-মন্দির ভাঙছে।”

প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ করে চিন্ময় কৃষ্ণ বলেন, “আপনি বলেছেন, ‘আমরা সবাই বাংলাদেশি, আমরা সংখ্যালঘু নই’। যদি তাই হয় আমাদের মন্দিরগুলো ভেঙেছে কেন?

“আপনি শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন। বাঙালির সম্মান বৃদ্ধি করেছেন। কিন্তু আপনার সরকারের সময় আমরা সনাতনীরা যদি শান্তিতে না থাকি তাহলে আপনার এই প্রাপ্তি ব্যর্থ হবে।

প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার পর আপনি কথা দিয়েছিলেন, সনাতনী সম্প্রদায়ের ৮ দফা দাবি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রায় এক মাস হচ্ছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় একটি দাবিও মেনে নেওয়া হয়নি, বাস্তবায়ন হয়নি।”

সরকার পতন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের উদ্দেশ করে চিন্ময় কৃষ্ণ বলেন, “আপনারা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন। আমরা সেই বাংলাদেশের অংশ। আমাদের বাদ দিয়ে তো সেই বাংলাদেশ হবে না। আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আর দয়া করে আমাদের নিয়ে প্রহসন করবেন না।

হিন্দুদের উপর এভাবে “সাম্প্রদায়িক হামলা হতে থাকলে বাংলাদেশের স্বাভাবিক মর্যাদা, অসাম্প্রদায়িক চরিত্র ও গণতন্ত্রের বিকাশমান ধারা এগুলো কোনো কিছুই থাকবে না।”

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “যারা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছেন, তারা খেয়াল করবেন- কিছু উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী আমাদের মিত্র হয়ে, ফ্রেন্ড হয়ে আমাদেরকে উসকানিমূলক কথা বলছে।

“খুলনায় আজ আহত হয়ে উৎসব মণ্ডল মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে, তাকে সনাতন ধর্ম নিয়ে বিভিন্ন উসকানিমূলক কথা বলা হয়েছে। এর বিপরীতে ১৬ বছরের সেই অপরিপক্ব নাবালক যখন তার যে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছে।

আমরা কখনও সে ধরনের অভিব্যক্তিকে সমর্থন করি না। কিন্তু তাকে আইনের হাতে তুলে দেয়া যেত, তাকে বিচার ব্যবস্থায় নেওয়া যেত। সেই ছেলেটিকে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সামনে আক্রমণ করেছে। এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”

শুক্রবার রাতে নগরীর চেরাগী পাহাড় মোড় এলাকা দিয়ে গণেশ প্রতিমা নেয়ার সময় স্থানীয় কদম মোবারক এতিমখানা থেকে গরম পানি ছুড়ে মারা ও এর পরের উদ্ভূত ঘটনার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন চিন্ময় কৃষ্ণ।

তিনি বলেন, “আমাদের কি ধর্মীয় অনুভূতি নাই? আমাদের চামড়া কি এত মোটা যে আমাদের আরাধ্যকে নিয়ে উপহাস করবেন? আমরা কি প্রতিবাদ করতে পারব না? গতকাল রাতে প্রতিবাদ করা হয়েছে। অতিশয় দুর্ভাগ্যের বিষয় তখন এটাকে মসজিদ আক্রমণ করা হচ্ছে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করা হয়েছে।

হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকজন ভাইকে আটকে রাখা হয়েছিল। পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে তাদের উদ্ধার করেছে। আমরা বলতে চাই, আমাদের বেঁচে থাকার অধিকারকে, আমার প্রাপ্য অধিকারকে আপনারা প্রহসন করে অন্য খাতে নিয়ে যাবেন না। এভাবে বারবার প্রহসন হলে মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাবে।”