• ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

বেসরকারি খাতের নেতৃত্বে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারে এমসিসিআই ও পলিসি এক্সচেঞ্জের যৌথ গবেষণা প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত মার্চ ৯, ২০২৬
বেসরকারি খাতের নেতৃত্বে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারে এমসিসিআই ও পলিসি এক্সচেঞ্জের যৌথ গবেষণা প্রকাশ

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ-এর যৌথ উদ্যোগে প্রণীত “Reviving Private Sector-Led Economic Growth: Critical Issues and Priorities Facing the New Government in Bangladesh” শীর্ষক একটি প্রকাশনার উন্মোচন অনুষ্ঠান আজ এমসিসিআই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিপিআরসি-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক-এর চেয়ারপারসন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এমসিসিআই-এর প্রতিনিধিবৃন্দ এবং প্রকাশনার বিস্তারিত দিক তুলে ধরেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও নলেজ পার্টনার ড. মাসরুর রিয়াজ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, গত দুই দশকে বাংলাদেশ ৬-৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বজায় রাখলেও ২০২২ সাল থেকে বৈশ্বিক পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সাপ্লাই চেইন বিঘ্নিত হওয়া এবং অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে অর্থনীতি একটি জটিল সময় পার করছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ এবং বিনিয়োগের ধীরগতি কাটিয়ে উঠতে নতুন সরকারের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সংস্কার রোডম্যাপ প্রয়োজন।

গবেষণা প্রতিবেদনে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য
সাতটি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে:
১. সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা (Macroeconomic Stabilization)
২. রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (Fiscal Management)
৩. ব্যাংকিং খাতের সুশাসন ও আর্থিক স্থিতিশীলতা
৪. রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি
৫. বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন
৬. জ্বালানি নিরাপত্তা
৭. ভবিষ্যৎ-উপযোগী দক্ষ জনশক্তি তৈরি

এমসিসিআই-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই প্রকাশনাটি কেবল সমস্যার তালিকা নয়, বরং নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি ব্যবহারিক নির্দেশিকা (Actionable Roadmap)। বেসরকারি খাত বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত, তবে এর জন্য প্রয়োজন নীতিনির্ধারণী স্বচ্ছতা (Policy Predictability) এবং প্রতিযোগিতার সমান সুযোগ (Level Playing Field)।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াটি কিছুটা ভঙ্গুর। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখনই কৌশলগত সংস্কার না করলে প্রবৃদ্ধির গতি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বাস্তবসম্মত ও দ্রুত বাস্তবায়যোগ্য সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সকলে একমত পোষণ করেন যে, নতুন সরকারের উন্নয়ন এজেন্ডায় উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের প্রকৃত সমস্যাগুলোর প্রতিফলন থাকা জরুরি।