• ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩১শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৪ঠা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

পার্বত্য চুক্তির ২৬ বছরে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ কি-কি বৈষম্যের স্বীকার তা নিয়ে একটি পর্যালোচনা নির্মল বড়ুয়া মিলন

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৪
পার্বত্য চুক্তির ২৬ বছরে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ কি-কি বৈষম্যের স্বীকার তা নিয়ে একটি পর্যালোচনা নির্মল বড়ুয়া মিলন

পার্বত্য চুক্তির ২৬ বছরে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ কি-কি বৈষম্যের স্বীকার তা নিয়ে একটি পর্যালোচনা নির্মল বড়ুয়া মিলন

পার্বত্য চুক্তির আলোকে গঠন করা হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভুমি কমিশন, পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন, ১৯৮৯ (রাঙামাটি পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন, ১৯৮৯, বান্দরবান পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন, ১৯৮৯, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন, ১৯৮৯) এবং এর বিভিন্ন ধারা সমূহের পরিবর্তন, সংশোধন, সংযোজন ও অবলোপন করার মাধ্যমে গঠন করা হয় রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ। এর আগে থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা প্রশাসন, তিন জেলার গুইমারাসহ ২৬ উপজেলার উপজেলা প্রশাসন, তিন পার্বত্য জেলার পৌরসভা ও তিন পার্বত্য জেলার ইউনিয়ন পরিষদ বিদ্যমান। পার্বত্য চুক্তির মধ্য দিয়ে শক্তিশালী করা হয় চাকমা সার্কেল, বোমাং সার্কেল ও মং সার্কেল চীফদের কার্যক্ষমতা। এর বাইরে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয় এর অধিদপ্তর/পরিদপ্তর আওতাধীন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কার্যালয় রয়েছে। এছাড়া পার্বত্য অঞ্চলে রয়েছে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ইউএনডিপি-সিএইচটিডিএফ, এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক এডিবির পার্বত্য চট্টগ্রাম পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প ও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সংস্থা। এর বাইরে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় কমিটি, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি মূল্যায়ন কমিটি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহায়তাকারী উপদেষ্টা কমিটি, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কমিটি ইত্যাদি। পার্বত্য চুক্তির প্রারম্ভে বেশ কিছু বিষয় গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, তন্মধ্যে সকল নাগরিকের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক অধিকার সমূন্নত এবং আর্থ সামাজিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে। চুক্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সকল নাগরিকের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক অধিকার সমূন্নত এবং আর্থ সামাজিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া তরান্বিত করা এবং বাংলাদেশের সকল নাগরিকের স্ব-স্ব অধিকার সংরক্ষন এবং উন্নয়নের কথা থাকলেও কিন্তু কৌশলগত ভাবে পার্বত্য চুক্তির আগে এবং শতবছর ধরে পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী বড়ুয়া, সাঁওতাল, অহমিয়া ও গুর্খা জনগোষ্ঠীর কথাও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পার্বত্য চুক্তির পর থেকে প্রতিটি স্থরে এবং রাজনৈতিক ভাবে পার্বত্য অঞ্চল বসবাসরত এ সকল জনগোষ্ঠীর মানুষ প্রতি পদে পদে বৈষম্যের শিকার এবং বাঙ্গালী (মুসলামান), বড়ুয়া, তনচঙ্গা, সাঁওতাল, অহমিয়া, গুর্খা, কুকি, পাংখোয়া, লুসাই (মিজু), চাক, খুমি, খিয়াং ও ম্রো জনগোষ্ঠীকে পার্বত্য অঞ্চল থেকে উৎখাত করার সুদুর প্রসারী ষড়যন্ত্র চলছে। এ দিকে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বাহিনী ব্যবহার করে পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত সংখ্যালঘুদের ভূমি কৌশলে কেড়ে নিয়ে এ অঞ্চল থেকে বিতারিত করার অঘোষিত নিয়ম চালু রয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এবং রাঙামাটি,খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী বাঙ্গালী (মুসলমান), বড়ুয়া, তনচঙ্গা, সাঁওতাল, অহমিয়া, গুর্খা, কুকি, পাংখোয়া, লুসাই (মিজু), চাক, খুমি, খিয়াং ও ম্রো জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা সংরক্ষণ হাতে গোনা, পার্বত্য চুক্তির ২৬ বছরেও চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠির তুলনায় ইসলাম ধর্মের বাঙ্গালী, বড়ুয়া, তনচঙ্গা,সাঁওতাল, অহমিয়া, গুর্খা, কুকি, পাংখোয়া, লুসাই (মিজু), চাক, খুমি, খিয়াং ও ম্রো জনগোষ্ঠীর লোকজন ২৬ বছরে অনেক বেশী পিছিয়ে পড়েছে। কেউ মানুক বা না মানুক এটাই সত্য। পার্বত্য অঞ্চলের বসবাসরত অধিবাসীদের যে রাজনৈতিক অধিকার ছিল চুক্তির পর ২৬ বছরেও আদৌ তার অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌছতে পারেনি তার মুল কারণ হচ্ছে : উগ্র সম্প্রদায়িকতা, বৈষম্য ও ক্ষমতার লোভ।


পার্বত্য চুক্তির আগে ও পরে রেওয়াজ ছিলো রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হবে একজন চাকমা উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর সদস্য, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হবে একজন উপজাতীয় ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর সদস্য কিন্তু সাবেক পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি অযাচায়ীত ভাবে তার ক্ষমতার অপ-ব্যবহার করে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনোনীত করেন তারই মারমা সম্প্রদায়ের লোকজনকে যাহা পার্বত্য চুক্তির পরিপন্থি এবং বৈষম্যেমূলক । বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি থেকে তিনটি পার্বত্য জেলায় পার্বত্য জেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান করার দাবিও দীর্ঘদিনের।
স্থানীয় সরকার পরিষদ সর্বপ্রথম চেয়ারম্যান গৌতম দেওয়ান, চেয়ারম্যান পারিজাত কুসুম চাকমা, চেয়ারম্যান রবিন্দ্র লাল চাকমা, (পার্বত্য চুক্তির আলকে) রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চিংকিউ রোয়াজা, চেয়ারম্যান মানিক লাল দেওয়ান, চেয়ারম্যান জগতজ্যোতি চাকমা, চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, চেয়ারম্যান বৃষকেতু ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংশু প্রু চৌধুরী ।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী তো জনাব ক্যশৈহ্লা চেয়ে ভয়ংকর তিনি কাউখালী উপজেলার আওয়ামীলীগ এবং মারমা জনগোষ্ঠীর লোকজন ছাড়া কিছুই বুঝেন না। কয়েকদিন আগে নিজে থেকে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগী একজন অ-নির্বাচিত নেতা হিসাবে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরীর নাম রাঙামাটি বাসী অতি সহজে ভুলতে পারবেন না।
রাঙামাটি জেলাবাসির উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠি লিখে নিজের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ অংসুইপ্রু চৌধুরী।
মঙ্গলবার ৩ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এই কথা জানিয়েছে।
গত ১৪ ডিসেম্বর ২০২০ সালে নিয়োগ পেয়ে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্তর্বতীকালীন পরিষদ চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অংসুইপ্রু চৌধুরী বনে যান আওয়ামীলীগ দলীয় চেয়ারম্যান । রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসাবে অংসুইপ্রু চৌধুরী -দল মত সাম্প্রদায়িকতার উর্ধে উঠতে পারেনি। তার সময় কালে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ লুটপাটের সর্বরেকড ভঙ্গ করেছে।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরীর ন্যায় বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ সমুহের সদস্যরা আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে যেমন খুশি তেমন করেই চালাচ্ছেন এসব জেলা পরিষদের কার্যক্রম। হাজারো প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত জেলা পরিষদগুলো পার্বত্য অধিবাসীদের কাছে নেই কোন জবাবদিহিতা। অ-নির্বাচিত দলীয় আখড়া জেলা পরিষদগুলো যেন এনজিও সংস্থা। লেকচার পিকচার ভাউচার যেন তাদের দৈনন্দিন কাজ। সাধারন জনগণের কাছে বিতরণ করা খাদ্য শষ্য ও নগদ অর্থ বিতরণের মাষ্টার রোল এ সুবিধা ভোগীদের স্বাক্ষর অথবা মোবাইল নাম্বার পর্যন্ত ফাইলে খুঁজে পাওয়া যায় না। এসমস্ত জেলা পরিষদ সমূহ থেকে তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চাইলেও পাওয়া যায়না। দুর্নীতি-অনিয়ম কাকে বলে ? তা কত প্রকার এবং কি-কি শিখতে হলে বা দেখতে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ অন্যতম। কিন্তু অদ্যবধি এদের বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। দুদক নিরব দর্শক এর ভুমিকায়। তিন জেলার ২৬টি উপজেলার উপজেলা প্রশাসন কেবলমাত্র নিয়ম রক্ষার্থে সাধারন জনগণের সাথে সম্পৃক্ত। এসব উপজেলা পরিষদ কি কাজ করে জনসাধারন জানে না। তিন পার্বত্য জেলার পৌরসভা ও তিন পার্বত্য জেলার ইউনিয়ন পরিষদগুলো এখন হয়ে উঠেছে ঠিকাদারদের পুনর্বাসন কেন্দ্র। এদের সাধারন জনগণের সাথে যোগাযোগ নেই বললে চলে। দলীয় পরিচয় ছাড়া সাধারন জনগনের কদর এখন তাদের কাছে নেই।
পার্বত্য চুক্তির আলোকে যে সমস্ত বিভাগ পার্বত্য জেলা পরষদ সমূহে হস্তান্তরিত করা হয়েছে তন্মধ্যে – ১.কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ২.জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ৩.মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ ৪.তুলা উন্নয়ন বোর্ড ৫.জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ ৬.পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ ৭. প্রাণীসম্পদ বিভাগ ৮.মৎস্য বিভাগ ৯.বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ১০.ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি সাংস্কৃতি ইন্সটিটিউট ১১.জেলা শিল্পকলা একাডেমী ১২.বাজারফান্ড প্রশাসন ১৩.টেক্সটাইল ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট ১৪.জেলা সরকারী গণগ্রন্থাগার ১৫.যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ১৬.স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ১৭.আঞ্চলিক জনসংখ্যা প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট (আরপিটিআই) ১৮.জেলা সমাজসেবা বিভাগ ১৯.হর্টিকালচার সেন্টার ২০.জেলা সমবায় বিভাগ ২১. নার্সিং ট্রেনিং ইন্সটিটিউট ২২. স্বাস্থ্য বিভাগ ২৩. জুমচাষ ২৪. কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) ২৫. জেলা ক্রীড়া অফিস ২৬. পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ ব্যতিত ইমপ্রুভমেন্ট ষ্ট্রাষ্ট ও অন্যান্য শাসন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান ২৭. স্থানীয় শিল্প বানিজ্য লাইসেন্স ২৮. জন্ম-মৃত্যু ও অন্যান্য পরিসংখ্যান ২৯. মহাজনি কারবার ৩০. স্থানীয় পর্যটন ইত্যাদি। জেলা পরিষদ সমূহের কাছে হস্তান্তরিত এসব বিভাগ সমূহের কাজ কি ? প্রতিমাসে জেলা পরিষদ সমূহের সাথে মাসিক উন্নয়ন সভা-সমন্বয় সভা ব্যতিত হস্তান্তরিত বিভাগের বেতন ভাতা স্বাক্ষর করা ছাড়া উন্নয়ন বা অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়। পার্বত্য চুক্তি করার পর থেকে পার্বত্য অঞ্চলের স্থানীয় মানুষ যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকুরী পাবে এমন আশা করেছিলো, সমতলে যেখানে তিন লক্ষ টাকা খরচ করে একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রার্থী চাকুরী পায়, সেখানে পার্বত্য অঞ্চলে জেলা পরিষদগুলোর মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের চাকরী পেতে গুনতে হয় আট থেকে দশ লক্ষ টাকা। পার্বত্য চুক্তির পর একটি বারের জন্য চুক্তি সম্পাদনকারী উভয়ে কেউ বলেনি যে, সরকারী চাকুরী পেতে ঘুষ বাণিজ্য বন্ধ করা হোক। উল্টো চুক্তি সম্পাদনকারীদের দলীয় নেতাদের ঘুষ না দিলে মিলেনা চাকুরী। এখানে একটি কথা পরিষ্কারভাবে খোলাসা করা প্রয়োজন- পার্বত্য চুক্তির আলোকে স্থানীয় পার্বত্য অঞ্চলের অধিবাসীরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাকরী পাওয়ার কথা কিন্তু ঘুষ বাণিজ্য ও আমলাতন্ত্রের জটিলতার কারণে পার্বত্য অঞ্চলের বাহিরের লোকজন চাকুরীর বাজার দখল করে আছে।
মূলতঃ ২০০৭ সালের পর থেকে পার্বত্য চুক্তি মুখ থুবরে পরেছে। সরকারের বাস্তবায়নকারীরা সরে গেছে তাদের মূল স্প্রিড থেকে। বৈষম্যমূলক ভাবে করা পার্বত্য চুক্তি বাতিল করা হোক অথবা ভারতের তাবিদার আওয়ামীলীগ প্রধান শেখ হাসিনা ও পিসিজেএসএস-মূল প্রধান জ্যোতিরিন্দ্রিবোধিপ্রিয় লারমারা মধ্যে করা পার্বত্য চুক্তি সকল কার্যক্রম আন্তর্বর্তীকালিন সরকারের সময়কাল পর্যন্ত বন্ধ রাখার দাবি উঠেছে তা বৈষম্যহীনভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
পার্বত্য অঞ্চলের মুল সমস্যা হচ্ছে ভুমি সমস্যা যা আজ পর্যন্ত সমধান হয়নি এবং সরকারের নীতি নির্ধারকদের পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে মনোভাব, দৃষ্টি পরিবর্তন না হলে পার্বত্য অঞ্চলের ভুমি সমস্যা সমধান হওয়ার সম্ভবনা নাই। পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত সকল জনগোষ্ঠীর স্বার্থ সংরক্ষণ করে এবং সকল সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠান বা প্রশাসনকে সমভাবে মর্যাদা দিয়ে ১৯০০ সালের রেগুলেশন আইন, বাজারফান্ড আইন সম্পুর্ণভাবে বাতিল করে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পূর্ণমূল্যোয়ন এখন প্রয়োজন। একই সাথে পার্বত্য অঞ্চলে দুইটি আইন চলতে পারে না। যে কোন একটি আইন দ্বারা পাহাড়ের জনসাধারনকে শাসন করা হোক। দেশে প্রচলিত অনেক আইনের পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু পার্বত্য অঞ্চলে পার্বত্য চুক্তির দোহাই দিয়ে জনসাধারনকে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত, এক দেশে দুই আইন স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানের পরিপন্থি।
পার্বত্য অঞ্চলের বিশেষ করে প্রত্যান্ত অঞ্চলের অধিবাসীরা না পারে সইতে না পারে কইতে এমন একটা জীবণ যাপন করছে তাদের কথা যেমন গণমাধ্যমে আসেনা তেমনি মুখ খুললে পরের দিন লাশ পরে থাকে। জিম্মি দশায় রয়েছে পার্বত্য অঞ্চলের সাধারন খেটে খাওয়া অধিবাসীরা। মুক্তি চায় এবং শান্তিতে বাঁচতে চায় পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ। শনিবার ২রা ডিসেম্বর ২০২৩ সালে পার্বত্য চুক্তির ২৬ বছর পূর্ণ হয়।
দেশের সংবিধান পরিপন্থি এবং বৈষম্যেমূলক আইনে বিগত ২৬ বছরে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ কিছুই পায়নি বিধায় পাহাড়ে কর্মকান্ড আছে সেই সকল জাতীয়, আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং পাহাড়ে বসবাসরত সকল জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করে কেবল মাত্র কাগজে কলমে নয়, বাসতবসম্মতভাবে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পার্বত্য চুক্তি পূর্ণঃ মুল্যায়ন করা এখন পার্বত্যবাসীর প্রাণের দাবি।
পার্বত্য অঞ্চলে সংবাদমাধ্যমের সংখ্যা বেড়েছে কিন্তু সংবাদিকতার মূল কাজ যে পিসিজেএসএস-মূল, সেনাবাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন ও ক্ষমতাবানদের কাছে প্রশ্ন করার ক্ষমতা বাড়াতে হবে।
প্রয়োজনে বৈষম্যমূলক পার্বত্য চুক্তি বাতিল করে অথবা পূর্ণঃমূল্যায়ন করার লক্ষে পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের রায় নেয়ার জন্য গণভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে।

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930