• ১লা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৮ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় শিক্ষা পরিকল্পনা জোরদার করছে বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত মে ১১, ২০২৬
জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় শিক্ষা পরিকল্পনা জোরদার করছে বাংলাদেশ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমেই দেশের স্কুল, পাঠদান এবং শিক্ষার ধারাবাহিকতাকে ব্যাহত করছে। এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষা খাতে প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদারে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউনেসকো, ইউনেসকো ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর এডুকেশনাল প্ল্যানিং (আইআইইপি), সেভ দ্য চিলড্রেন এবং গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন-এর সহায়তায় আজ ঢাকার হলিডে ইন-এ ক্লাইমেট স্মার্ট এডুকেশন সিস্টেমস ইনিশিয়েটিভ (CSESI)-এর আওতায় তিনদিনব্যাপী একটি জাতীয় কর্মশালার উদ্বোধন করে। ১০ থেকে ১২ মে ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় জাতীয় ও উপ-জাতীয় পর্যায়ের ৩০ জনের বেশি সরকারি কর্মকর্তা, কারিগরি বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষা পরিকল্পনাবিদ অংশ নিচ্ছেন। কর্মশালার লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষা খাতে বিদ্যমান সক্ষমতা মূল্যায়ন এবং জলবায়ু ঝুঁকি বিশ্লেষণের সক্ষমতা আরও জোরদার করা।

কর্মশালার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক। তিনি বলেন, “এই কর্মশালাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার বিদ্যমান সক্ষমতাগুলো পর্যালোচনা এবং কোথায় আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন তা চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি করছে। এই প্রক্রিয়া প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকারিতা বাড়াতে, সমন্বয় জোরদার করতে এবং আমাদের নীতি ও কার্যক্রমকে বাস্তব তথ্য ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।”

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউনেসকোর প্রতিনিধি ও অফিস প্রধান ড. সুসান ভাইজ। তিনি বলেন, “এই কর্মশালা শুধু ঝুঁকি চিহ্নিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিদ্যমান সক্ষমতা, ব্যবস্থা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো কতটা কার্যকরভাবে এসব ঝুঁকি মোকাবিলা করতে পারে, তা বোঝার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রমাণভিত্তিক পরিকল্পনা, সমন্বয় এবং জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি জোরদার করা শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে এবং শিশু ও তরুণদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় অত্যন্ত জরুরি।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) বদরুন নাহার, এনডিসি। তিনি শিক্ষা খাতে জলবায়ু তথ্যব্যবস্থা এবং জলবায়ু অর্থায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। কর্মশালায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস), জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। ইউনেসকো-আইআইইপি-এর বিশেষজ্ঞ মিস ই শি, ইউনেসকো ঢাকা অফিস এবং সেভ দ্য চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে যৌথভাবে কর্মশালার কারিগরি সেশন পরিচালনা করেন।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ। ২০২৫ সালের নটর ডেম গ্লোবাল অ্যাডাপটেশন ইনডেক্স অনুযায়ী, ১৮৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৮তম। অন্যদিকে জাতীয় শিক্ষা তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র ২০২৩ সালেই প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জলবায়ুজনিত দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা, পরিবর্তিত বৃষ্টিপাতের ধরণ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং লবণাক্ততার প্রভাব স্কুলে উপস্থিতি, অবকাঠামো এবং শিক্ষার্থীদের শেখার ফলাফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ইউনেসকো- আইআইইপি-এর জলবায়ু ঝুঁকি বিশ্লেষণেও দেখা গেছে, জলবায়ু সহনশীলতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নীতিগত ভিত্তি শক্তিশালী হলেও শিক্ষা পরিকল্পনা, শিক্ষক উন্নয়ন, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং অবকাঠামো পরিকল্পনায় জলবায়ু অভিযোজন এখনো পদ্ধতিগতভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

কর্মশালাটি ক্লাইমেট স্মার্ট এডুকেশন সিস্টেমস ইনিশিয়েটিভ (CSESI)-এর আওতায় একটি বৃহত্তর জাতীয় প্রক্রিয়ার অংশ, যা বাংলাদেশে ২০২৪ সালে যৌথ স্কোপিং মিশন এবং কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে শুরু হয়। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো শিক্ষা খাতে জলবায়ু ঝুঁকি, দুর্বলতা এবং প্রভাব বিশ্লেষণে জাতীয় কর্মশালার আয়োজন করে। এই ধারাবাহিক কর্মশালাগুলো বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের জন্য প্রথম জাতীয় জলবায়ু ঝুঁকি বিশ্লেষণ তৈরিতে অবদান রাখছে, যা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী শিক্ষা নীতি, টেকসই অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং লক্ষ্যভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়নের ভিত্তি তৈরি করবে।

August 2026
S S M T W T F
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031