সংযুক্ত আরব আমিরাতে সম্প্রতি কিছু প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ার ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের সহায়তায় সরকারের করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক, এমপি-এর যৌথ সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় পররাষ্ট্র সচিব, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং দুবাইয়ে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।
সভায় জানানো হয় যে, সম্প্রতি বিভিন্ন সূত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত কিছু বাংলাদেশি নাগরিকের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ার তথ্য সরকারের নজরে এসেছে। বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় ভিসা বাতিলের ঘটনা কেবল বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেই নয় দক্ষিণ এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার কিছু দেশের কিছু প্রবাসীর ক্ষেত্রেও ঘটেছে।
সভায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি গভীর উদ্বেগ ও সহমর্মিতা প্রকাশ করা হয় এবং তাঁদের স্বার্থ সংরক্ষণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে বলে পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
জানানো হয়, বাংলাদেশ দূতাবাস ইতোমধ্যে প্রাপ্ত ৪১৭টি আবেদন সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট পুনর্বিবেচনার জন্য প্রেরণ করেছে। একই সঙ্গে দূতাবাস ও বাংলাদেশ কনসুলেট জেনারেল, দুবাই সংশ্লিষ্ট স্পন্সর ও নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে ক্ষতিগ্রস্তদের সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সভায় জানান যে, তিনি ইতোমধ্যে ঢাকায় নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে উত্থাপন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের সমস্যা দ্রুত ও মানবিক বিবেচনায় সমাধানের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, যেহেতু স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা বাতিলের বিষয়টি সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কোনো নির্দিষ্ট নীতির আওতায় কেবল বাংলাদেশিদের জন্য প্রযোজ্য নয় এবং অন্যান্য দেশের কিছু প্রবাসীকেও প্রভাবিত করেছে, তাই এ বিষয়ে প্রকৃত কারণ ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হবে। এ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সতর্কতামূলক নির্দেশনা প্রদান করা হবে।
এছাড়া, স্থানীয় আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কে প্রবাসীদের সচেতনতা আরও জোরদার করতে বাংলাদেশ দূতাবাস, আবুধাবি এবং বাংলাদেশ কনসুলেট জেনারেল, দুবাইকে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের দ্রুত সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ হটলাইন চালু করবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ দূতাবাস, আবুধাবি এবং বাংলাদেশ কনসুলেট জেনারেল, দুবাই পৃথক হটলাইন চালু করবে, যাতে ভুক্তভোগীরা নির্ধারিত ফরম্যাটে তাঁদের তথ্য জমা দিতে পারেন। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট মিশন সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সম্ভাব্য সমাধানের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে। ক্ষতিগ্রস্থ প্রবাসীদের তাঁদের স্ব-স্ব স্পন্সর/নিয়োগকর্তার সহযোগিতা নেয়া প্রয়োজন বলেও এ সভায় উল্লেখ করা হয়।
সভায় উভয় প্রতিমন্ত্রী প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে ধৈর্য ও সচেতনতা অবলম্বনের আহ্বান জানান এবং অনুরোধ করেন, এ বিষয়ে কোনো গুজব বা অসমর্থিত তথ্যের ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশ দূতাবাস, কনসুলেট এবং সরকারের আনুষ্ঠানিক তথ্যের ওপর আস্থা রাখতে।
সরকার পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের স্বার্থ ও কল্যাণ রক্ষায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে এবং পরিস্থিতির অগ্রগতির বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য যথাসময়ে জনসাধারণকে অবহিত করা হবে।