আগামীকাল ০৮ মার্চ ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বের সকল নারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বাণী প্রদান করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে উল্লেখ করেন, একটি রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়নের জন্য নারীর অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য— ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’ অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। তাই নারীদের রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনীতির মূলধারার বাইরে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে নারী উন্নয়নের মাইলফলকগুলো স্মরণ করে বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে ‘নারী বিষয়ক দপ্তর’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৯৭৮ সালে ‘মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠন করেন। পরবর্তীতে মাদার অব ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে ১৯৯৪ সালে এটি ‘মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’-এ রূপান্তরিত হয়।
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা চালু করে নারী ক্ষমতায়নে যে বিপ্লবী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সরকার বর্তমানে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছে এবং শিক্ষা, রাজনীতি ও স্বাস্থ্যসহ সকল স্তরে নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা চালু করা, উচ্চশিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, ডিজিটাল লার্নিং সুবিধা এবং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা।” তিনি আরও জানান, নারীর নিরাপত্তা বিধানকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং সাইবার বুলিং ও অনলাইনে নারী হয়রানি বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা সম্পন্ন একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।