ভারতীয় প্রতারকের বিয়ের প্রলোভনে পাচারকালে সুনামগঞ্জের তরুণীকে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই উদ্ধার করলো র্যাব-৯
র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এলিট ফোর্স হিসেবে আত্মপ্রকাশের সূচনালগ্ন থেকেই বিভিন্ন ধরনের নৃশংস ও ঘৃণ্যতম অপরাধ বিশেষ করে মাদক উদ্ধার, হত্যা মামলা, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, জঙ্গি দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেফতারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। এছাড়াও যে কোন ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে জনসাধারণের জন্য একটি নিরাপদ বাসযোগ্য সমাজ তথা দেশ বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায় ভারতের আসাম রাজ্যের জনৈক রেজাউল করিম এর সাথে বাংলাদেশের নাগরিক সুনামগঞ্জ জেলার সুনামগঞ্জ সদর থানার মোছাঃ তাছনিম জাহান আলো (২০) এর সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দীর্ঘদিন যোগাযোগ করে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। একপর্যায়ে প্রতারক ও মানবপাচারকারী জনৈক রেজাউল করিম কৌশলে মিথ্যা বিবাহের আশ্বাস ও প্রলোভন দেখিয়ে ভিকটিমের নিজ এলাকা থেকে গত ১৩ অক্টোবর ২০২৫ ইং তারিখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিয়ে আসেন। ভিকটিম নিখোঁজ হওয়ার পর তার বড় ভাই বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ সদর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরী করেন। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে ভিকটিমকে উদ্ধার ও আসামীদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৯ এই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জের একটি যৌথ আভিযানিক দল অদ্য ১৪ অক্টোবর ২০২৫ ইং তারিখ আনুমানিক ১৫:১০ ঘটিকার সময় ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার সদর থানাধীন ঘাটিয়ারা এলাকার “হোটেল থ্রী স্টার আবাসিক” হোটেলের ৫০৭ নং রুমে অভিযান পরিচালনা করে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই নিখোঁজ ভিকটিমকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধারকৃত ভিকটিমের নাম- মোছাঃ তাছনিম জাহান আলো (২০), পিতা- আব্দুল আউয়াল, সাং- হাছাননগর, সুনামগঞ্জ সদর, জেলা- সুনামগঞ্জ। ঘটনাস্থলে রেজাউল করিম কে পাওয়া যায়নি বিধায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। ভিকটিমের কাছ থেকে জানা যায়, রেজাউল করিম ভারতের আসাম রাজ্যের নাগরিক এবং হোটসএ্যাপ এর মাধ্যমে ভিকটিমের সাথে যোগাযোগ করতেন। রেজাউল করিম ভিকটিমকে বিবাহ করে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে নিয়ে যাবে মর্মে প্রলোভন দেখায় এবং হোটেলে অপেক্ষা করতে বলে। অনুসন্ধানে জানা যায় যে, জনৈক রেজাউল করিম একজন প্রতারক ও মানবপাচারকারীর সক্রিয় সদস্য।
পরবর্তীতে উদ্ধাকৃত ভিকটিমকে তার পরিবারের লোকজনের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯, সিলেট এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।