• ৩১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৭ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

থ্যালসেমিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই: ই-হেলথ কার্ড চালুর পরিকল্পনা সরকারের

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত মে ৭, ২০২৬
থ্যালসেমিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই: ই-হেলথ কার্ড চালুর পরিকল্পনা সরকারের

ঢাকা, মে ২০২৬:থ্যালাসেমিয়া একটি জটিল বংশগত রক্তরোগ, যা বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে প্রায় দুই কোটি মানুষ এই রোগের জিন-বাহক বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমতাবস্থায়, থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।এবারের বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে—’আর আড়াল নয়: রোগ নির্ণয়হীনদের খুঁজে বের করি, অলক্ষ্যে থাকা রোগীদের সহায়তা করি’। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বিভিন্ন জনহিতকর কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করা। দুইজন থ্যালাসেমিয়া বাহকের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক না হলে এই রোগের বিস্তার রোধ করা সম্ভব। বিশেষ করে পিতা-মাতা উভয়েই জিন-বাহক হলে সন্তানের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে বিবাহের পূর্বে রক্ত পরীক্ষার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা অপরিহার্য।সরকার একটি জনমুখী ও আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় নাগরিকদের জন্য ই-হেলথ কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।এই কার্ডের মাধ্যমে নাগরিকগণ নিজেদের স্বাস্থ্যের হালনাগাদ তথ্য জানতে পারবেন।গ্রাম বা শহর—যেখানেই চিকিৎসা নেওয়া হোক না কেন, চিকিৎসকরা দ্রুত রোগীর প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে যাবেন।থ্যালাসেমিয়া বাহক শনাক্তকরণ ও ব্যবস্থাপনায় এই কার্ড বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।সরকারের পাশাপাশি সকল পেশাজীবী, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গণমাধ্যম এবং অভিভাবকদের প্রতি এই রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে থ্যালাসেমিয়ার জিন-বাহকদের মধ্যে বিবাহের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে রাষ্ট্র ও সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সাফল্য কামনা করে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’—এই নীতি অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।