শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়কে মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা
জাপান-বাংলাদেশ ৮ম প্লাটফর্ম মিটিং এর সিদ্ধান্তের আলোকে শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়কে মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্পে কাজ করার গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাপানি প্রতিষ্ঠান মিয়াগাওয়া কেনসেটসু কনস্ট্রাকশন লিমিটেড । আজ সেতু ভবনে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আবদুর রউফ-এর সাথে প্রতিষ্ঠানটির একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাতের সময় এ আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকালে জাপানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন মিয়াগাওয়া কেনসেটসু কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের এর Director/Overseas Representatives Mr. TOJI NISHIDA । বৈঠকে শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়কে মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা, কারিগরি দিক এবং যৌথ সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে সেতু সচিব প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের চলমান বিভিন্ন মেগা প্রকল্প ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সম্পর্কে তাঁদের অবহিত করেন। সেতু সচিব বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে দেশের যোগাযোগ খাতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। বাংলাদেশে যোগাযোগ নেটওয়ার্ক আরও সুদৃঢ় করতে বড়ো বড়ো নদীর ওপর সেতু নির্মাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে, স্বচ্ছতা ও নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে যে-কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, বর্তমান সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশের যোগাযোগ খাতে এক অভাবনীয় রূপান্তর ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও অদম্য সদিচ্ছার কারণেই আজ মেগা প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের মুখ দেখছে। একই সাথে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর প্রজ্ঞাপূর্ণ নেতৃত্ব এবং ধারাবাহিক দিকনির্দেশনায় দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো বিশ্বমানে উন্নীত হচ্ছে। ভবিষ্যতের ট্র্যাফিক চাহিদা মেটাতে ভূগর্ভস্থ সাবওয়ে নেটওয়ার্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে উল্লেখ করে তিনি আন্তর্জাতিক মানের প্রকৌশল প্রযুক্তি, স্বচ্ছতা ও নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
জাপানি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জাপানে বিভিন্ন জটিল ও বৃহৎ নির্মাণ প্রকল্পে তাঁদের প্রতিষ্ঠানের সফল কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়কে মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে জাপানের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা কাজে লাগাতে তাঁরা অত্যন্ত আগ্রহী।
আলোচনার শেষ পর্যায়ে সেতু সচিব জাপানি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবটি দেশের বিদ্যমান আইন, বিধি ও নীতিমালার আলোকে অগ্রগতির বিষয়ে সেতু বিভাগের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পিপিপি এর আওতায় বিনিয়োগের শর্তাবলি, অর্থায়ন এবং অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে একটি সুনির্দিষ্ট ও আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবনা জমা দেওয়ার জন্য তিনি প্রতিনিধিদলকে অনুরোধ জানান। প্রস্তাবটি পাওয়ার পর যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়।