বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার ২০ আগষ্ট ২০২৬, জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে আয়োজিত এক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে তিনি জয়ী হন।
নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ কক্ষে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩৪৩ জন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। গণনা শেষে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে চূড়ান্তভাবে বিজয় অর্জন করেন। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ১৬৭ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
১৯৯১ সালে দেশে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ওই বছরই সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে একটি প্রাণবন্ত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রপতির নির্বাচন সম্পন্ন হলো। উল্লেখ্য, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০২, ২০০৯, ২০১৩, ২০১৮ এবং ২০২৩ সালের নির্বাচনগুলোতে একাধিক প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, তাঁর এই দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সাংবিধানিক, আইনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন ও সমৃদ্ধ অধ্যায়ের সূচনা হবে।