• ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৫ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

এসআই আকবরকে পালাতে সহায়তা ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নষ্ট করায় এসআই হাসান বরখাস্ত

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ২২, ২০২০
এসআই আকবরকে পালাতে সহায়তা ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নষ্ট করায় এসআই হাসান বরখাস্ত

সিলেট নগরীরর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান আহমদের মৃত্যুর ঘটনায় এসআই আকবরকে পালাতে সহায়তা ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নষ্ট করার অভিযোগে এসআই হাসান উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করে সিলেট মহানগর পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আসরাফ উল্লাহ তাহের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

গত ১০ অক্টোবর দিবাগত মধ্যরাতে রায়হানকে তুলে নিয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানাধীন বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করে তার পরিবার।

সকালে তিনি মারা যান। নির্যাতন করার সময় তৌহিদ মিয়া নামে এক পুলিশ সদস্যের মুঠোফোন থেকে রায়হানের পরিবারের কাছে ফোন দিয়ে টাকা চাওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা সকালে ফাঁড়ি থেকে হাসপাতালে গিয়ে রায়হানের মরদেহ শনাক্ত করেন।

ঘটনার শুরুতে ওই ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা ছিনতাইকারী সন্দেহে নগরের কাস্টঘর এলাকায় গণপিটুনিতে রায়হান নিহত হন বলে প্রচার চালান। কিন্তু গণপিটুনির স্থান হিসেবে যে কাস্টঘর এলাকার কথা বলেছিল পুলিশ- সেখানে সিটি করপোরেশনের স্থাপন করা সিসিটিভির ক্যামেরায় ওই সময় এমন কোনো দৃশ্য দেখা যায়নি।

এছাড়া গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) কাস্টঘরের সুইপার গলির চুলাই লাল দাবি করেন, গত শনিবার রাতে তার বাসা থেকে সুস্থ অবস্থায় রায়হানকে ধরে নিয়ে যায় বন্দরবাজার ফাঁড়ি পুলিশ।

এ ঘটনায় ১১ অক্টোবর রাত আড়াইটার দিকে রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বন্দরবাজার ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে পুলিশ সদস্যরা নির্যাতন করে তার স্বামীকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ এনে মামলা করেন।

পরে পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে আলোচিত এই মামলাটির তদন্তভার পিবিআইকে দেয়া হয়। গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতেই এই মামলার নথি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করে মহানগর পুলিশ। এরপর পিবিআই কর্মকর্তারা বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে যান এবং ঘটনার আলামত সংগ্রহ করেন।

পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে রায়হানের মরদেহ উত্তোলন করে পিবিআই। পরে পুনরায় ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে ফের তার মরদেহটি নগরের আখালিয়ার নবাবি মসজিদ সংলগ্ন পঞ্চায়েতি গোরস্থানে দাফন করা হয়।

মারা যাওয়ার পর রায়হানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। তার দুই হাতের তিনটি আঙুলের নখও উপড়ানো ছিল। এ ঘটনার পর পুলিশের বিরুদ্ধে হেফাজতে নির্যাতন করে রায়হানকে মেরে ফেলার অভিযোগ ওঠে।

রায়হানের মৃত্যুর জন্য দায়িত্বহীনতার দায়ে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করে তাদের পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।

এর মধ্যে এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে পুলিশ লাইন্স থেকে পালিয়ে যান। তাকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। বাকি ছয়জন পুলিশ লাইন্সে রয়েছে বলে জানা গেছে।

এ আর / হাকালুকি

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930