বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
যশোমাধব মন্দির পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী ধামরাই রথযাত্রা উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুধীবৃন্দ, আমার সালাম নিন।
বক্তব্যের শুরুতে আমি বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহিদকে যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। একইসঙ্গে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহিদকে যাঁদের আত্মদানে উন্মোচিত হয়েছে শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও সাম্যের এক নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথ। আমি আরও স্মরণ করছি এ আন্দোলনে যাঁরা আহত হয়েছেন ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন সেসকল অকুতোভয় ছাত্র-জনতাকে।
আট দিনের এই রথযাত্রা অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে আপনাদেরকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।
যতোদূর জানা যায়, আমাদের এই উপমহাদেশে প্রাচীনকাল থেকে রথযাত্রা অনুষ্ঠানের প্রচলন রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও এই রথযাত্রা পালিত হচ্ছে সুদীর্ঘকাল ধরে। এই অনুষ্ঠানটি আমাদের দেশে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা হিসেবে পরিচিত। কিন্তু ধামরাই-র রথযাত্রাটি যশোমাধবের রথযাত্রা হিসেবেই সবাই জানে। এর কারণ হিসেবে জানতে পেরেছি একই দেবতার বিভিন্ন নামের কারণে রথযাত্রা অনুষ্ঠানের এই একাধিক পরিচিতি। নাম যা-ই হোক, আমাদের দেশে এই অনুষ্ঠানটি পঞ্জিকা অনুসরণ করে আষাঢ় মাসের একটি নির্দিষ্ট তিথিতে সর্বত্র অনুষ্ঠিত হয়।
প্রিয় উপস্থিতি,
বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আবহমান কাল ধরে এ দেশে বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, শ্রেনি, পেশার মানুষ পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি রেখে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। রথযাত্রা হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান হলেও এ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-ধর্ম-বর্ণ-পেশা-ধনী-গরীব নির্বিশেষে অনেক দর্শনার্থী আসেন এবং অনুষ্ঠানে শরিক হন বলে জানতে পেরেছি। এটি এ ভূখন্ডের মানুষের অসাম্প্রদায়িক মানসিকতা ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন। রথের মেলায় এসে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা আনন্দ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এই জাতীয় অনুষ্ঠানের
মূল শিক্ষা সাম্যের বাণী প্রচার করা।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের বৈষম্য আর অনিয়ম দূর করে দেশে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই এ সরকারের মূল লক্ষ্য। সংস্কারের মাধ্যমে এসব অনিয়ম ও বৈষম্য দূর করতে হবে। সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। সেইজন্য সকলকে ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে। দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে। সাধারণ জনগনের সহযোগিতা পেলে এটিকে আরো সন্তোষজনক পর্যায়ে নিতে পারবো বলে আমি আশা করি।
প্রিয় সুধী,
ধামরাই’র এই রথযাত্রা অনুষ্ঠানটি বাংলা ১০৭৯ সাল থেকে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রায় চারশ’ বছরের এই অনুষ্ঠান নিঃসন্দেহে আমাদের ঐতিহ্যের একটি উজ্জ্বল নিদর্শন। আমি জেনে আনন্দিত হয়েছি যে, ধামরাই-র রথযাত্রা অনুষ্ঠানটি দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ রথযাত্রা উৎসব। এটি আপনাদের জন্য অবশ্যই গৌরবের বিষয়।
কারুপণ্যের এই বিখ্যাত পৌর শহর ধামরাইয়ে এই উৎসবকে কেন্দ্র করে মাসব্যাপী যে শিল্পমেলার আয়োজন চলে তা এই অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে বলে আমার বিশ্বাস। রথ উৎসবকে কেন্দ্র করে আজ হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি দেখে আমি খুবই আনন্দিত। এই সমাবেশ থেকে সহজেই অনুমান করতে পারি যে, কী বিপুল আনন্দ-উদ্দীপনা মানুষের মধ্যে জাগ্রত হয়েছে।
আমি আশা করবো, আপনারা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে শৃঙ্খলার সঙ্গে নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে যাবেন। বর্তমান সরকার আপনাদের সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাবে।
সবাইকে ধন্যবাদ।
আল্লাহ হাফেজ