• ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩১শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৪ঠা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত জুলাই ৮, ২০২৬
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ – এই দর্শনকে ধারণ করে বর্তমান সরকার একটি সবুজ, জলবায়ু-সহনশীল, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণকে সমান গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য দেশ গড়ে তোলাই আমাদের অঙ্গীকার।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতীয় ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬’ একটি সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ। এ বছর জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য, ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’, আমাদের এই জাতীয় অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।

মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ডের বিরূপ প্রভাবে বৈশ্বিক উষ্ণতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত বিশ্বব্যাপী প্রকৃতি ও মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে। প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি রোধে বৃক্ষের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বৃক্ষ বায়ুমণ্ডলীয় কার্বন শোষণ করে, অতিরিক্ত তাপমাত্রা কমায় এবং পরিবেশকে নির্মল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এ বাস্তবতা বিবেচনায় বর্তমান সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের এক যুগান্তকারী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এটি কেবল একটি সরকারি কর্মসূচি নয়, বরং একটি জাতীয় আন্দোলন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও রেলপথের দুই পাশ, বাঁধ, সরকারি বনভূমি, উপকূলীয় চরাঞ্চল, নগর এলাকা এবং বসতবাড়িসহ দেশের সর্বত্র বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় জনগণকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। নগর বনায়নে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং বিনামূল্যে চারা বিতরণের উদ্যোগও অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বৃক্ষাচ্ছাদন বৃদ্ধি পাবে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা সহজ হবে এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে।

উন্নত জীবনের জন্য যেমন প্রয়োজন সমৃদ্ধ দেশ ও শক্তিশালী অর্থনীতি, তেমনি সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ বন। সমৃদ্ধ অর্থনীতি ও সবুজ বন পরস্পর ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কযুক্ত।

একটি গতিশীল ও সম্ভাবনাময় সবুজ অর্থনীতি গড়ে তুলতে বন ও বৃক্ষরোপণ গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই দেশকে সবুজে আচ্ছাদিত করার লক্ষ্যে বাড়ির আনাচে-কানাচে, পতিত ও প্রান্তিক জমিতে, খাল ও নদীর পাড়ে, বাঁধে, সড়ক ও সড়কদ্বীপে, বাড়ির ছাদে এবং শহর-বন্দর নির্বিশেষে উপযুক্ত প্রতিটি স্থানে ব্যাপক বনায়ন কার্যক্রমে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে অংশগ্রহণের জন্য আমি উদাত্ত আহ্বান জানাই।

বৃক্ষমেলা দেশে সবুজায়ন আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বৃক্ষরোপণে দেশবাসীকে আরও উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এ বছরও জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বৃক্ষমেলার আয়োজন এবং তিন মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

আমি আশা করি, দেশবাসী বৃক্ষমেলা থেকে উন্নত জাতের চারা সংগ্রহের সুযোগ পাবে এবং শিক্ষার্থীরা উদ্ভিদ বৈচিত্র্য সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জনের সুযোগ লাভ করবে।

আসুন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, সুন্দর, নির্মল ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা প্রত্যেকে অন্তত একটি করে বৃক্ষরোপণ করি এবং তার যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করি।

এ বছর যারা ‘বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার, ২০২৫’, ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার, ২০২৬’ এবং সামাজিক বনায়নের লভ্যাংশ অর্জন করেছেন, আমি তাঁদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।

আমি জাতীয় ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬’ এর সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করছি।

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930