রাজীব কান্তি দে/ঢাকা
যথাযোগ্য মর্যাদায় ঢাকা জেলা প্রশাসনের বিজয় দিবস পালন।বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু এবং সবই হচ্ছে একে অপরের পরিপূরক।প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বলেছেন, বাংলাদেশকে জানতে হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জানতে হবে।
শনিবার সকাল ১১ ঘটিকায় জাতীয় সংগীত এর মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা শুরু হয়।সকল শহীদের আত্মার শান্তি কামনা এবং দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মুখ্যসচিব বলেন, বঙ্গবন্ধু শুধু মুক্তিযুদ্ধ করেছেন তাই নয়, তিনি এই দেশকে কেমন করে নির্মিত করতে হবে এবং দেশের চেহারাটা কেমন হবে তা ও নির্ধারণ করে গেছেন।পাকিস্তান এখন বাংলাদেশ এর দিকে অবাক দৃষ্টিতে থাকিয়ে থাকে।তারা এখন বাংলাদেশ এর উন্নয়ন দেখে হতবাক।
তোফাজ্জল হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর যুদ্ধ ছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে। তাই নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক বীর মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন। তাদের বিভিন্নভাবে সন্মানীত করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মো: তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বলেন, মুক্তিযুদ্ধ হঠাৎ করে হয়নি। বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি ছিল সারা জীবনের। আমরা দেখেছি অতিতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে খন্ডিত করা হয়েছিল, মুক্তিযোদ্ধাদের অসন্মানীত করা হয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধারা নিজেকে পরিচয় দিতে ভীত সন্ত্রস্ত থাকতেন। সেই জায়গা থেকে আজকে আমরা বেড়িয়ে এসেছি।
মূখ্যসচিব বক্তব্যে আর ও বলেন,৫২এর ভাষা আন্দোলন, ৬৬, সালের ছয়দফা, ৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০ সালের নির্বাচন এবং ৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে সঠিকভাবে জানতে হবে তাদের তুলে ধরতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আর ও বলেন,বঙ্গবন্ধুর সরকার ছিল সবচেয়ে দক্ষ সরকার। এইরকম শক্তিশালী সরকার আর কোথাও কখনো ছিল না। বঙ্গবন্ধু প্রতিটি সেক্টরে হাত দিয়েছিলেন। তিনি যেমন শহরকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন, তেমনি গ্রামকেও সমানভাবে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি কোথাও বৈষম্য করেননি। আজকের বর্তমান সরকারও বৈষম্য করেনি, গ্রাম ও শহরকে সমানভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে উন্নয়ন করছে।
তিনি বক্তব্যে আরও বলেন,হেনরী কিসিন্জার একসময় বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলেছিল।তিনি ও মৃত্যুর আগে বাংলাদেশ এর অভুতপূর্ব উন্নয়ন দেখে গেছে।বাংলাদেশ এর প্রশংসা করে গেছে।
বঙ্গবন্ধু মাত্র ৩৪ বছরে জীবনে প্রথম মন্ত্রী হয়েছিলেন। ৩৬ বছর বয়সে দ্বিতীয়বার মন্ত্রী হয়েছিলেন। তিনি মন্ত্রীত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন- শুধু আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কাজের জন্য এবং সাধারণ মানুষের জন্য।
অনুষ্ঠানে আর ও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো: সাবিরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মো: আসাদুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
বিজয় দিবস এর আলোচনা সভা শেষে মুক্তিযুদ্ধ ও দেশের গান প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। উপস্থিত অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।পরিশেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।উপস্হিত অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরুস্কার তুলে দেন।সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পরে সমাপ্তি হয়।