ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হলো তিনদিন ব্যাপী ‘আর্ট ফর ইক্যুয়ালিট’ চিত্র প্রদর্শনী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হলো তিনদিন ব্যাপী ‘আর্ট ফর ইক্যুয়ালিট’ চিত্র প্রদর্শনী
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত জানুয়ারি ২১, ২০২৬
প্রদর্শিত হচ্ছে নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯০ জন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও খ্যাতিমান শিল্পীর চিত্রকর্ম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের তত্ত্বাবধানে বুধবার নয়টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী শিল্পীদের আঁকা ‘আর্ট ফর ইক্যুয়ালিট’ বিষয়ে ৯০ টি চিত্রকর্ম প্রদর্শনী ও একটি ডিজিটাল ক্যাটালগ উদ্বোধন করা হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে চিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান এবং সভাপ্রধান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রদর্শনীর কিউরেটর ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শেখ মনির উদ্দিন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য ও স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ও প্রদর্শনীর এসোসিয়েট কিউরেটর সঞ্জয় কুমার দে।
নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের অর্থায়নে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের যৌথ বাস্তবায়নে ৪ বছর মেয়াদী ‘সমতায় তারুণ্য-ইয়ুথ ফর ইক্যুয়ালিটি’ প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনীটি আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জরিস ভ্যান বোমেল; মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শবনম মোস্তারী; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যকলা বিভাগের অনারারি অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সাত্তার; চারুকলা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক এ এ এম কাওসার হাসান; প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস ও জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট এর চেয়ারম্যান করভি রাখসান্দ।
প্রদর্শনী চলবে জানুয়ারী ২১-২৩ তারিখে প্রতিদিন সকাল ৯:০০ টা থেকে বিকাল ৭:৩০ টা পর্যন্ত। এছাড়া বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিল্পী ও গবেষকদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী বিষয়ভিত্তিক ৩টি আলাদা সেমিনার অনুষ্টিত হবে।
প্রদর্শনী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, “বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়কে সংযুক্ত করে এরকম একটি উদ্যোগ নিঃসন্দেহে দারুণ একটি কাজ। এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডস এর রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতি আরো বড় অংশীদারিত্বের একটি উদাহরণ।”
তিনি ‘আর্ট ফর ইক্যুয়ালিটি’ শিরোনামের শিল্প কর্মশালা, প্রদর্শনী ও সেমিনারে অংশগ্রহণকারী সকলকে অভিনন্দন জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জরিস ভ্যান বোমেল তিনটি শক্তির গুরুত্বের কথা বলেন, ‘সমতার শক্তি, তারুণ্যের শক্তি, ও শিল্পের শক্তি। এই তিন শক্তির মাধ্যমে সমতা ও ন্যায়ের বার্তা মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়া যায়। আর্ট ফর ইক্যুয়ালিটি উদ্যোগের অংশ হতে পেরে নেদারল্যান্ডস সরকার গর্বিত।”
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শবনম মোস্তারী বলেন, “প্রদর্শিত চিত্রকর্মগুলোতে আমাদের সমাজের বাস্তব চিত্র ও শক্তিশালী বার্তা উঠে এসেছে।”
তিনি আরও বলেন, “ঢাকার পাশাপাশি গ্রামীণ শিল্পী ও প্রান্তিক পর্যায়ের শিশুদের সম্পৃক্ত করে শিল্পের মাধ্যমে সমাজের চিত্র তুলে ধরা শেখানো যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে চারুকলা অনুষদ শিক্ষার্থীদের নিয়ে গ্রামে কাজ করতে পারে, এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমেও এই উদ্যোগগুলো যুক্ত করা যেতে পারে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচ্যকলা বিভাগের অনারারি অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সাত্তার বলেন, “এ ধরনের একটি ব্যতিক্রমী আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ। প্রদর্শিত চিত্রকর্মগুলোতে নানা বাস্তবতা ও সামাজিক বার্তা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।”
তিনি আরও বলেন, “সমতা বলতে আমরা যা বুঝি, তা বাস্তবায়ন করা সহজ নয়—চেষ্টা করলেও সমতা প্রতিষ্ঠা করা কঠিন। তবে শিল্প, সংলাপ ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা আশাবাদী যে এই পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।”
চারুকলা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক এ এ এম কাওসার হাসান বলেন, “শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগ ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে, দেশের অন্যান্য জায়গায় ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের আয়োজন করতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “শিল্পের মাধ্যমে সমাজের চিন্তাধারায় পরিবর্তন আনা সম্ভব। চারুকলা অনুষদের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস বলেন, “সমাজের বিভিন্ন স্তরে বৈষম্য রয়েছে, যা নিয়ে আমাদের গভীরভাবে ভাবতে হবে এবং তা নিরসনে উদ্যোগ নিতে হবে। শিল্পের মাধ্যমে এই বৈষম্যের কারণ ও বাস্তবতাকে তুলে ধরতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “আর্টের পাশাপাশি সংবাদকর্মী, বিনোদন মাধ্যম ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের নিয়ে আমরা কাজ করছি, যেন তারা সমাজের নারী–পুরুষসহ সকল ব্যক্তিকে সমভাবে উপস্থাপন করেন। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ সকল স্তরে সমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।”
জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট এর চেয়ারম্যান করভি রাখসান্দ বলেন, “আর্ট ফর ইক্যুয়ালিটি’র মতো এই উদ্যোগকে জলবায়ু পরিবর্তনসহ অন্যান্য সামাজিক ইস্যুর সঙ্গে সংযুক্ত করা গেলে আমাদের বার্তাগুলো আরও ভালোভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।”
প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের প্রতিনিধিরাও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। তাছাড়া সেরা দশটি চিত্রকর্মের শিল্পীদের এবং অংশগ্রহণকারী সকল শিল্পীকে সনদ প্রদান করা হয়। মোট ৯০ জন শিল্পীর মধ্যে ৫৩ জন সেরা দশ চিত্রকর্ম নির্বাচন প্রতিযোগিতায় অংশ নেন এবং খ্যাতিমান শিল্পীদের আঁকা ৩৭টি শিল্পকর্ম প্রতিযোগিতার বাইরে (নন-কম্পিটিটিভ) রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বরের ১৪-১৫ তারিখে দুইদিন ব্যাপী একটি শিল্প কর্মশালায় নয়টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯০ জন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, যুব শিল্পী এবং খ্যাতিমান শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন। শিল্পীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়; জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়; খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়; রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়; শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অফ ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি; ঢাকা আর্ট কলেজ; নারায়নগঞ্জ ফাইন আর্ট ইনস্টিটিউট ও যশোর এস এম সুলতান আর্ট কলেজকে প্রতিনিধিত্ব করেন।
*‘আর্ট ফর ইক্যুয়ালিটি’র সেরা দশ চিত্রশিল্পী-*
১. নাদিয়া ইয়াসমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
২. দেবাজ্যোতি বর্ষণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৩. মোছাঃ মোমেনুন নেছা সুরমা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৪. মোঃ সাজ্জাদুর রহমান সিহান, ঢাকা আর্ট কলেজ
৫. শামীম আহমেদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
৬. নিহা রানী দাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৭. সোমা সুরভী জান্নাত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৮. সাইম আহমেদ, শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অফ ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি