রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা উদযাপিত হয়েছে। বুদ্ধপূজা, বোধিবৃক্ষমূলে জল সিঞ্চন, ধর্মীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, ধাতু প্রদর্শন, অষ্টশীল গ্রহণ, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, সম্মিলিত মৈত্রী শোভাযাত্রা, হাসপাতালে রোগীদের মাঝে খাবার বিতরণ, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী পালন, দেশ ও বিশ্বশান্তি কামনায় হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, সমবেত প্রার্থনা, ধর্মালোচনা সভা সহ নানা আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা ২০২৪ উদযাপন করা হয়েছে। শত বছর ধরে রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারে উদযাপিত হয়ে আসা শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা এবছর আরো ব্যাপক পরিসরে আয়োজন করা হয়েছে।
এবছর শুভ বুদ্ধপূর্ণিমার সম্মিলিত শান্তি শোভাযাত্রা (র্যালি) ছিল অন্যতম আকর্ষণ। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, সকাল সাড়ে আটটায় সম্মিলিত শান্তি শোভাযাত্রা শুরু হয়। রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারের আয়োজনে অনুষ্ঠিত উক্ত র্যালিতে রামুর অন্যান্য বৌদ্ধ বিহার সমূহ নিজ নিজ ব্যানারে অংশগ্রণ করেন। শত শত নারী-পুরুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে র্যালি আকষর্ণের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
সিদ্ধার্থের জন্ম, বুদ্ধত্বলাভ এবং বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণ সাক্ষাতের দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য সম্বলিত সুসজ্জিত গাড়িবহর, খোলা আকাশের নিচে সুসজ্জিত ছাদখোলা গাড়িতে ধ্যানী বুদ্ধের প্রতিবিম্ব, সাথে ত্রিশরণের প্রতিধ্বনি এক গুরুগম্ভীর পরিবেশ সৃষ্টি করে। নারী-পুরুষদের হাতে হাতে ছোট-বড় অসংখ্য জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা বহন, কুলায় আলপনা একেঁ নতুন বুদ্ধবর্ষকে বরণ করার দৃশ্য সবকিছু মিলে দৃষ্টিনন্দন ও মনোমুগ্ধকর বৃহৎ একটি র্যালিতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা ছিলেন বেশ উচ্ছ্বসিত । র্যালিটি রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহার চত্বর থেকে শুরু করে চৌমুহনী স্টেশন হয়ে রামু বাইপাস ফুটবল ভাস্কর্য চত্বর ঘুরে পুণরায় রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারে এসে শেষ হয়।
র্যালি পরবর্তী সকাল পৌঁনে দশটার দিকে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হয়। রামু হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীতে প্রথমে রামু জাদিপাড়া আর্যবংশ বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত চন্দ্রবোধি ভিক্ষু রক্তদান করেন। এরপর নারী-পুরুষদের আরো অনেকে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন।
এরপর সকাল দশটায় শুরু হয় সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান ও সদ্ধর্মালোচনা সভা। সভায় ভদন্ত করুণাশ্রী মহাথের সভাপতিত্ব করেন। এতে ভদন্ত শীলপ্রিয় মহাথের, ভদন্ত ক্ষান্ত্রিপঞ্ঞা থের, ভদন্ত শরণপ্রিয় থের, ভদন্ত সৌরবোধি থের এবং ভদন্ত প্রজ্ঞানন্দ থের প্রমূখ ভিক্ষুসংঘ সদ্ধর্ম দেশনা দান করেন। এরপর দুপুর একটার দিকে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে রোগীদের মাঝে খাবার পরিবেশন করা হয়।
এদিকে দুপুর বারটার দিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও হুইপ সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারে শুভ বুদ্ধপূর্ণিমার শুভেচ্ছা বিনিময় করতে আসেন। বিকালে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকেও পুলিশের একটি প্রতিনিধি দল শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করতে আসেন।
সারা দিনের কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বিকালে পুণরায় সদ্ধর্মালোচনা, সন্ধ্যায় দেশ ও বিশ্বশান্তি কামনায় হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও সমবেত উপাসনার মধ্য দিয়ে শুভ বুদ্ধপূর্ণিমার কর্মসূচী সম্পন্ন হয়।